প্রকাশিত: ০২/০২/২০২২ ৫:০২ পিএম

‘শুধুমাত্র দু-বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই’ এমন শিরোনামে মাস্টার্স পাস করা আলমগীর কবিরের একটি বিজ্ঞাপনের ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটি ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই সে যুবকের সন্ধান চান।

বগুড়া শহরের জহুরুল নগর এলাকায় বসবাস করা যুবকের ভাইরাল এ বিজ্ঞাপন দেখে বুধবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার। পরে পুলিশ সুপার তাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছেন আলমগীর। ২০২০ সালে মাস্টার্স পাসের পর থেকে চাকরি খুঁজছেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী চাকরি তিনি পাননি।

এ জন্য পেশায় ‘বেকার’ উল্লেখ করে বগুড়া শহরের জহুরুল নগরের আশেপাশের এলাকায় প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত ছাড়া সব বিষয় পড়ানোর জন্য তিনি বিজ্ঞাপনটি দেন।

সাদা কাগজে কালো কালিতে প্রিন্ট করা বিজ্ঞাপনটি দেখা যায় শহরের বিভিন্ন দেয়ালে ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে। বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল, ‘শুধুমাত্র দু-বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই। (সকাল ও দুপুর)। প্রথম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত, তবে গণিত বিষয় ছাড়া।’

আলমগীর কবির বলেন, মূলত খাবারের কষ্ট থেকেই বিজ্ঞাপন দিয়েছি। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসার পর আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে আমার একটি টিউশনি আছে। সেখানে রাতে পড়াই। তারা আগে নাস্তা দিত। পরে আমি তাদের বলেছি নাস্তার বদলে ভাত খাওয়াতে। কিন্তু রাতে খাবারের সংস্থান হলেও সকাল আর দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা ছিল না।

আলমগীর কবির আরও বলেন, আমি টিউশনি করে পাই দেড় হাজার টাকা, সেটি দিয়ে হাত খরচ, খাবার, চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যাতায়াতসহ কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। সে জন্য আমি যেখানে থাকি তার আশেপাশে টিউশনি খুঁজছি, যেখানে আমার অন্তত দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে; এ আশায় বিজ্ঞাপনটি দিয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপনটি ভাইরাল হওয়ার পর কোনো সাড়া পেয়েছেন কি না, উত্তরে আলমগীর কবির বলেন, ওই বিজ্ঞাপনটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর আমাকে অসংখ্য ফোন করে নানা ধরনের ভালো-মন্দ কথা বলা হয়েছে। সমবেদনাও জানিয়েছেন অনেকে। এক পর্যায়ে ফোনে একের পর এক কলের কারণে ফোন বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। চাকরিরও অফার দিয়েছেন অনেকে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতাম। করোনার কারণে চাকরিতে সমস্য হলে বগুড়ায় চলে আসি।

আলমগীর কবিরের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামে। বহু কষ্টে বগুড়ায় এসে পড়াশোনা করেছেন। পাঁচ বছর আগে সরকারি আজিজুল হক কলেজে স্নাতকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরেও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আলমগীর। পড়াশোনা শেষে হন্যে হয়ে একটি ভালো চাকরি খুঁজেছেন, কিন্তু পাননি।

বুধবার বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আলমগীরের মুখে তার জীবনের সব গল্প শোনেন। এর পর তাকে চাকরির নিশ্চয়তা দেন।

পাঠকের মতামত

‘বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে ...

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ...

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...